২৪ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার৮ কার্তিক ১৪৩৩শুক্লা ত্রয়োদশীরাহুকাল সকাল ৮:৫০ – সকাল ১০:১৫ +8801922770158 English
শুভলগ্নজ্যোতিষী বি. কে. মণ্ডল আমার পরামর্শ নিন

২৭ নক্ষত্র: নাম, অধিপতি, রাশিভাগ আর পাদ

রাশিচক্রকে বারো ভাগে ভাগ করলে রাশি, আর সাতাশ ভাগে ভাগ করলে নক্ষত্র। চাঁদ প্রায় সাতাশ দিনে আকাশ ঘুরে আসে, তাই প্রাচীন ঋষিরা প্রতিদিন চাঁদ যে তারামণ্ডলের পাশে থাকে, সেটাকে একেকটা "চন্দ্রগৃহ" হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। প্রতিটা নক্ষত্র ১৩ অংশ ২০ কলা, আর প্রতিটা চার পাদে ভাগ, প্রতি পাদ ৩ অংশ ২০ কলা।

সাতাশ নক্ষত্রের টেবিল

#নক্ষত্রনিরয়ন সীমারাশিদশার অধিপতিগণ
১অশ্বিনীমেষ ০°০০′ – ১৩°২০′মেষকেতুদেব
২ভরণীমেষ ১৩°২০′ – ২৬°৪০′মেষশুক্রমনুষ্য
৩কৃত্তিকামেষ ২৬°৪০′ – বৃষ ১০°০০′মেষ/বৃষসূর্যরাক্ষস
৪রোহিণীবৃষ ১০°০০′ – ২৩°২০′বৃষচন্দ্রমনুষ্য
৫মৃগশিরাবৃষ ২৩°২০′ – মিথুন ৬°৪০′বৃষ/মিথুনমঙ্গলদেব
৬আর্দ্রামিথুন ৬°৪০′ – ২০°০০′মিথুনরাহুমনুষ্য
৭পুনর্বসুমিথুন ২০°০০′ – কর্কট ৩°২০′মিথুন/কর্কটবৃহস্পতিদেব
৮পুষ্যাকর্কট ৩°২০′ – ১৬°৪০′কর্কটশনিদেব
৯অশ্লেষাকর্কট ১৬°৪০′ – ৩০°০০′কর্কটবুধরাক্ষস
১০মঘাসিংহ ০°০০′ – ১৩°২০′সিংহকেতুরাক্ষস
১১পূর্বফাল্গুনীসিংহ ১৩°২০′ – ২৬°৪০′সিংহশুক্রমনুষ্য
১২উত্তরফাল্গুনীসিংহ ২৬°৪০′ – কন্যা ১০°০০′সিংহ/কন্যাসূর্যমনুষ্য
১৩হস্তাকন্যা ১০°০০′ – ২৩°২০′কন্যাচন্দ্রদেব
১৪চিত্রাকন্যা ২৩°২০′ – তুলা ৬°৪০′কন্যা/তুলামঙ্গলরাক্ষস
১৫স্বাতীতুলা ৬°৪০′ – ২০°০০′তুলারাহুদেব
১৬বিশাখাতুলা ২০°০০′ – বৃশ্চিক ৩°২০′তুলা/বৃশ্চিকবৃহস্পতিরাক্ষস
১৭অনুরাধাবৃশ্চিক ৩°২০′ – ১৬°৪০′বৃশ্চিকশনিদেব
১৮জ্যেষ্ঠাবৃশ্চিক ১৬°৪০′ – ৩০°০০′বৃশ্চিকবুধরাক্ষস
১৯মূলাধনু ০°০০′ – ১৩°২০′ধনুকেতুরাক্ষস
২০পূর্বাষাঢ়াধনু ১৩°২০′ – ২৬°৪০′ধনুশুক্রমনুষ্য
২১উত্তরাষাঢ়াধনু ২৬°৪০′ – মকর ১০°০০′ধনু/মকরসূর্যমনুষ্য
২২শ্রবণামকর ১০°০০′ – ২৩°২০′মকরচন্দ্রদেব
২৩ধনিষ্ঠামকর ২৩°২০′ – কুম্ভ ৬°৪০′মকর/কুম্ভমঙ্গলরাক্ষস
২৪শতভিষাকুম্ভ ৬°৪০′ – ২০°০০′কুম্ভরাহুরাক্ষস
২৫পূর্বভাদ্রপদকুম্ভ ২০°০০′ – মীন ৩°২০′কুম্ভ/মীনবৃহস্পতিমনুষ্য
২৬উত্তরভাদ্রপদমীন ৩°২০′ – ১৬°৪০′মীনশনিমনুষ্য
২৭রেবতীমীন ১৬°৪০′ – ৩০°০০′মীনবুধদেব

দশার অধিপতির ক্রমটা খেয়াল করুন: কেতু, শুক্র, সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল, রাহু, বৃহস্পতি, শনি, বুধ। এই নয়ের চক্র তিনবার ঘুরে সাতাশ নক্ষত্র পূর্ণ হয়। জন্মের সময় চাঁদ যে নক্ষত্রে থাকে, তার অধিপতির দশা দিয়েই জীবনের বিংশোত্তরী দশা শুরু হয়।

পাদ আর নামের অক্ষর

প্রতিটা নক্ষত্রের চার পাদের জন্য একটা করে ধ্বনি নির্দিষ্ট আছে, যেমন অশ্বিনীর চু, চে, চো, লা। শিশুর নাম রাখার সময় জন্মনক্ষত্রের পাদ অনুযায়ী প্রথম অক্ষর বাছার প্রথা এখান থেকেই। উল্টো দিকে, জন্মসময় জানা না থাকলে নামের প্রথম ধ্বনি থেকে নক্ষত্র আর রাশি বের করা যায়; শুভলগ্নের নামাক্ষর রাশিফল এই নিয়মে চলে।

অভিজিৎ নক্ষত্র

মুহূর্ত নির্বাচনে কখনো কখনো আঠাশতম নক্ষত্র অভিজিৎ গোনা হয়, যা উত্তরাষাঢ়ার শেষ পাদ আর শ্রবণার শুরুর অংশ নিয়ে গঠিত। দিনের অভিজিৎ মুহূর্ত কিন্তু আলাদা জিনিস; সেটা সূর্যের মধ্যগগনে থাকার কাছাকাছি সময়।

গণ কী কাজে লাগে

দেব, মনুষ্য আর রাক্ষস, এই তিন গণ মানুষের স্বভাবের তিন ধাঁচ বোঝায়। "রাক্ষস গণ" শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই; এর মানে দৃঢ়, স্বাধীনচেতা আর আপসহীন স্বভাব, খারাপ মানুষ নয়। বিয়ের কুষ্ঠি মিলনে গণ মিলের ছয় গুণ এই ভাগ থেকেই আসে।

গণ্ডান্ত

জলরাশির শেষ আর অগ্নিরাশির শুরুর সংযোগস্থল (অশ্লেষা-মঘা, জ্যেষ্ঠা-মূলা, রেবতী-অশ্বিনী) কে গণ্ডান্ত বলে। এই সন্ধির কাছে জন্ম বা কোনো কাজ শুরু করা পুরোনো রীতিতে সাবধানতার বিষয় ধরা হয়, আর এর জন্য শান্তি-স্বস্ত্যয়নের বিধানও আছে।

সাধারণ প্রশ্ন

নক্ষত্র কয়টি?

সাতাশটি। মুহূর্ত নির্বাচনে কখনো অভিজিৎ যোগ করে আঠাশটি ধরা হয়।

এক নক্ষত্রে কত অংশ?

১৩ অংশ ২০ কলা। প্রতিটা নক্ষত্রের চার পাদ, প্রতি পাদ ৩ অংশ ২০ কলা।

জন্মনক্ষত্র কীভাবে জানব?

জন্মের সময় চাঁদ যে নক্ষত্রে ছিল, সেটাই জন্মনক্ষত্র। জন্মের তারিখ, সময় আর জায়গা দিয়ে জন্মকুণ্ডলী পাতায় এটা দেখা যায়।

এই বিষয়ে আরও পড়ুন

সব লেখা