২৭ নক্ষত্র: নাম, অধিপতি, রাশিভাগ আর পাদ
রাশিচক্রকে বারো ভাগে ভাগ করলে রাশি, আর সাতাশ ভাগে ভাগ করলে নক্ষত্র। চাঁদ প্রায় সাতাশ দিনে আকাশ ঘুরে আসে, তাই প্রাচীন ঋষিরা প্রতিদিন চাঁদ যে তারামণ্ডলের পাশে থাকে, সেটাকে একেকটা "চন্দ্রগৃহ" হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। প্রতিটা নক্ষত্র ১৩ অংশ ২০ কলা, আর প্রতিটা চার পাদে ভাগ, প্রতি পাদ ৩ অংশ ২০ কলা।
সাতাশ নক্ষত্রের টেবিল
| # | নক্ষত্র | নিরয়ন সীমা | রাশি | দশার অধিপতি | গণ |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | অশ্বিনী | মেষ ০°০০′ – ১৩°২০′ | মেষ | কেতু | দেব |
| ২ | ভরণী | মেষ ১৩°২০′ – ২৬°৪০′ | মেষ | শুক্র | মনুষ্য |
| ৩ | কৃত্তিকা | মেষ ২৬°৪০′ – বৃষ ১০°০০′ | মেষ/বৃষ | সূর্য | রাক্ষস |
| ৪ | রোহিণী | বৃষ ১০°০০′ – ২৩°২০′ | বৃষ | চন্দ্র | মনুষ্য |
| ৫ | মৃগশিরা | বৃষ ২৩°২০′ – মিথুন ৬°৪০′ | বৃষ/মিথুন | মঙ্গল | দেব |
| ৬ | আর্দ্রা | মিথুন ৬°৪০′ – ২০°০০′ | মিথুন | রাহু | মনুষ্য |
| ৭ | পুনর্বসু | মিথুন ২০°০০′ – কর্কট ৩°২০′ | মিথুন/কর্কট | বৃহস্পতি | দেব |
| ৮ | পুষ্যা | কর্কট ৩°২০′ – ১৬°৪০′ | কর্কট | শনি | দেব |
| ৯ | অশ্লেষা | কর্কট ১৬°৪০′ – ৩০°০০′ | কর্কট | বুধ | রাক্ষস |
| ১০ | মঘা | সিংহ ০°০০′ – ১৩°২০′ | সিংহ | কেতু | রাক্ষস |
| ১১ | পূর্বফাল্গুনী | সিংহ ১৩°২০′ – ২৬°৪০′ | সিংহ | শুক্র | মনুষ্য |
| ১২ | উত্তরফাল্গুনী | সিংহ ২৬°৪০′ – কন্যা ১০°০০′ | সিংহ/কন্যা | সূর্য | মনুষ্য |
| ১৩ | হস্তা | কন্যা ১০°০০′ – ২৩°২০′ | কন্যা | চন্দ্র | দেব |
| ১৪ | চিত্রা | কন্যা ২৩°২০′ – তুলা ৬°৪০′ | কন্যা/তুলা | মঙ্গল | রাক্ষস |
| ১৫ | স্বাতী | তুলা ৬°৪০′ – ২০°০০′ | তুলা | রাহু | দেব |
| ১৬ | বিশাখা | তুলা ২০°০০′ – বৃশ্চিক ৩°২০′ | তুলা/বৃশ্চিক | বৃহস্পতি | রাক্ষস |
| ১৭ | অনুরাধা | বৃশ্চিক ৩°২০′ – ১৬°৪০′ | বৃশ্চিক | শনি | দেব |
| ১৮ | জ্যেষ্ঠা | বৃশ্চিক ১৬°৪০′ – ৩০°০০′ | বৃশ্চিক | বুধ | রাক্ষস |
| ১৯ | মূলা | ধনু ০°০০′ – ১৩°২০′ | ধনু | কেতু | রাক্ষস |
| ২০ | পূর্বাষাঢ়া | ধনু ১৩°২০′ – ২৬°৪০′ | ধনু | শুক্র | মনুষ্য |
| ২১ | উত্তরাষাঢ়া | ধনু ২৬°৪০′ – মকর ১০°০০′ | ধনু/মকর | সূর্য | মনুষ্য |
| ২২ | শ্রবণা | মকর ১০°০০′ – ২৩°২০′ | মকর | চন্দ্র | দেব |
| ২৩ | ধনিষ্ঠা | মকর ২৩°২০′ – কুম্ভ ৬°৪০′ | মকর/কুম্ভ | মঙ্গল | রাক্ষস |
| ২৪ | শতভিষা | কুম্ভ ৬°৪০′ – ২০°০০′ | কুম্ভ | রাহু | রাক্ষস |
| ২৫ | পূর্বভাদ্রপদ | কুম্ভ ২০°০০′ – মীন ৩°২০′ | কুম্ভ/মীন | বৃহস্পতি | মনুষ্য |
| ২৬ | উত্তরভাদ্রপদ | মীন ৩°২০′ – ১৬°৪০′ | মীন | শনি | মনুষ্য |
| ২৭ | রেবতী | মীন ১৬°৪০′ – ৩০°০০′ | মীন | বুধ | দেব |
দশার অধিপতির ক্রমটা খেয়াল করুন: কেতু, শুক্র, সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল, রাহু, বৃহস্পতি, শনি, বুধ। এই নয়ের চক্র তিনবার ঘুরে সাতাশ নক্ষত্র পূর্ণ হয়। জন্মের সময় চাঁদ যে নক্ষত্রে থাকে, তার অধিপতির দশা দিয়েই জীবনের বিংশোত্তরী দশা শুরু হয়।
পাদ আর নামের অক্ষর
প্রতিটা নক্ষত্রের চার পাদের জন্য একটা করে ধ্বনি নির্দিষ্ট আছে, যেমন অশ্বিনীর চু, চে, চো, লা। শিশুর নাম রাখার সময় জন্মনক্ষত্রের পাদ অনুযায়ী প্রথম অক্ষর বাছার প্রথা এখান থেকেই। উল্টো দিকে, জন্মসময় জানা না থাকলে নামের প্রথম ধ্বনি থেকে নক্ষত্র আর রাশি বের করা যায়; শুভলগ্নের নামাক্ষর রাশিফল এই নিয়মে চলে।
অভিজিৎ নক্ষত্র
মুহূর্ত নির্বাচনে কখনো কখনো আঠাশতম নক্ষত্র অভিজিৎ গোনা হয়, যা উত্তরাষাঢ়ার শেষ পাদ আর শ্রবণার শুরুর অংশ নিয়ে গঠিত। দিনের অভিজিৎ মুহূর্ত কিন্তু আলাদা জিনিস; সেটা সূর্যের মধ্যগগনে থাকার কাছাকাছি সময়।
গণ কী কাজে লাগে
দেব, মনুষ্য আর রাক্ষস, এই তিন গণ মানুষের স্বভাবের তিন ধাঁচ বোঝায়। "রাক্ষস গণ" শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই; এর মানে দৃঢ়, স্বাধীনচেতা আর আপসহীন স্বভাব, খারাপ মানুষ নয়। বিয়ের কুষ্ঠি মিলনে গণ মিলের ছয় গুণ এই ভাগ থেকেই আসে।
গণ্ডান্ত
জলরাশির শেষ আর অগ্নিরাশির শুরুর সংযোগস্থল (অশ্লেষা-মঘা, জ্যেষ্ঠা-মূলা, রেবতী-অশ্বিনী) কে গণ্ডান্ত বলে। এই সন্ধির কাছে জন্ম বা কোনো কাজ শুরু করা পুরোনো রীতিতে সাবধানতার বিষয় ধরা হয়, আর এর জন্য শান্তি-স্বস্ত্যয়নের বিধানও আছে।
সাধারণ প্রশ্ন
নক্ষত্র কয়টি?
সাতাশটি। মুহূর্ত নির্বাচনে কখনো অভিজিৎ যোগ করে আঠাশটি ধরা হয়।
এক নক্ষত্রে কত অংশ?
১৩ অংশ ২০ কলা। প্রতিটা নক্ষত্রের চার পাদ, প্রতি পাদ ৩ অংশ ২০ কলা।
জন্মনক্ষত্র কীভাবে জানব?
জন্মের সময় চাঁদ যে নক্ষত্রে ছিল, সেটাই জন্মনক্ষত্র। জন্মের তারিখ, সময় আর জায়গা দিয়ে জন্মকুণ্ডলী পাতায় এটা দেখা যায়।
এই বিষয়ে আরও পড়ুন
- পঞ্চাঙ্গ: তিথি, বার, নক্ষত্র, যোগ আর করণ কীভাবে গোনা হয়
- তিথি: ত্রিশ তিথির নাম, প্রকৃতি আর কোন কাজে কোন তিথি
- বাংলা পঞ্জিকা আর বঙ্গাব্দ: সংক্রান্তি থেকে মাস, বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গের হিসাব কেন আলাদা
- রাহুকাল কী, কখন হয় আর কেন এই সময়ে নতুন কাজ শুরু করতে নেই
- শুভ মুহূর্ত বাছাই: অভিজিৎ, রাহুকাল, যমগণ্ড, গুলিক আর অমৃতযোগ
- সূর্যগ্রহণ আর চন্দ্রগ্রহণ: কেন হয়, জ্যোতিষে কী বলে, সূতকের নিয়ম