২৪ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার৮ কার্তিক ১৪৩৩শুক্লা ত্রয়োদশীরাহুকাল সকাল ৮:৫০ – সকাল ১০:১৫ +8801922770158 English
শুভলগ্নজ্যোতিষী বি. কে. মণ্ডল আমার পরামর্শ নিন

পঞ্চাঙ্গ: তিথি, বার, নক্ষত্র, যোগ আর করণ কীভাবে গোনা হয়

পঞ্জিকা কথাটা এসেছে পঞ্চাঙ্গ থেকে: পাঁচটা অঙ্গ। প্রতিদিনের পঞ্জিকার পাতায় যা থাকে, তার মূলে এই পাঁচটাই: তিথি, বার, নক্ষত্র, যোগ আর করণ। পাঁচটার মধ্যে চারটা চাঁদ আর সূর্যের অবস্থান থেকে গাণিতিকভাবে বের হয়, আর একটা (বার) সূর্যোদয় থেকে।

এক নজরে

অঙ্গকীভাবে গোনা হয়মোট কয়টাএকটা কতক্ষণ
তিথিচাঁদ সূর্য থেকে প্রতি ১২ অংশ এগোলে এক তিথি৩০গড়ে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট, ২০ থেকে ২৭ ঘণ্টার মধ্যে ওঠানামা
বারএক সূর্যোদয় থেকে পরের সূর্যোদয়৭প্রায় ২৪ ঘণ্টা
নক্ষত্রচাঁদ নিরয়ন রাশিচক্রের যে ১৩°২০′ ভাগে২৭প্রায় এক দিন
যোগসূর্য আর চাঁদের নিরয়ন অংশের যোগফলের ১৩°২০′ ভাগ২৭প্রায় এক দিন
করণতিথির অর্ধেক (৬ অংশ)১১ রকম, মাসে ৬০টাপ্রায় ১২ ঘণ্টা

তিথি

অমাবস্যায় চাঁদ আর সূর্য একই জায়গায় থাকে। তারপর চাঁদ রোজ প্রায় ১২ অংশ করে এগোয়। প্রতি ১২ অংশে এক তিথি: শুক্লপক্ষে প্রতিপদ থেকে পূর্ণিমা পনেরোটা, কৃষ্ণপক্ষে প্রতিপদ থেকে অমাবস্যা পনেরোটা। চাঁদের গতি সব দিন সমান থাকে না, তাই তিথির দৈর্ঘ্যও বদলায়। কোনো তিথি দুটো সূর্যোদয় ছুঁয়ে গেলে তাকে বৃদ্ধি তিথি বলে, আর কোনো তিথি একটা সূর্যোদয়ও না পেলে তাকে ক্ষয় তিথি বলে। প্রতিটা তিথির স্বভাব নিয়ে আলাদা লেখা আছে: তিথি: নাম আর প্রকৃতি।

বার

হিন্দু দিন শুরু হয় সূর্যোদয়ে, মধ্যরাতে নয়। তাই রাত তিনটায় যা ঘটে, পঞ্জিকার হিসাবে তা আগের দিনের বারেই পড়ে। প্রতিটা বারের একজন অধিপতি গ্রহ: রবি সূর্যের, সোম চাঁদের, মঙ্গল মঙ্গলের, বুধ বুধের, বৃহস্পতি গুরুর, শুক্র শুক্রের, শনি শনির। বছরের রাজা-মন্ত্রী ঠিক করার পুরোনো নিয়মও এই বার থেকে।

নক্ষত্র

চাঁদ যে নক্ষত্রে থাকে, সেটাই দিনের নক্ষত্র। শুভ কাজের দিন বাছতে নক্ষত্রের ভূমিকা সবচেয়ে বড়: যেমন বিয়ের জন্য রোহিণী, মৃগশিরা, মঘা, উত্তরফাল্গুনী, হস্তা, স্বাতী, অনুরাধা, মূলা, উত্তরাষাঢ়া, উত্তরভাদ্রপদ আর রেবতী প্রশস্ত ধরা হয়। পূর্ণ তালিকা আছে ২৭ নক্ষত্র লেখায়।

যোগ

সূর্য আর চাঁদের নিরয়ন অংশ যোগ করে ৩৬০ দিয়ে ভাগশেষ নিলে যা থাকে, তাকে ১৩ অংশ ২০ কলা দিয়ে ভাগ করলে যোগ পাওয়া যায়। সাতাশটা যোগের নাম: বিষ্কুম্ভ, প্রীতি, আয়ুষ্মান, সৌভাগ্য, শোভন, অতিগণ্ড, সুকর্মা, ধৃতি, শূল, গণ্ড, বৃদ্ধি, ধ্রুব, ব্যাঘাত, হর্ষণ, বজ্র, সিদ্ধি, ব্যতীপাত, বরীয়ান, পরিঘ, শিব, সিদ্ধ, সাধ্য, শুভ, শুক্ল, ব্রহ্ম, ইন্দ্র আর বৈধৃতি। এর মধ্যে বিষ্কুম্ভ, অতিগণ্ড, শূল, গণ্ড, ব্যাঘাত, বজ্র, ব্যতীপাত, পরিঘ আর বৈধৃতি সাধারণত অশুভ ধরা হয়; ব্যতীপাত আর বৈধৃতি পুরোটাই বর্জনীয়।

করণ

এক তিথির অর্ধেক এক করণ। এগারো রকম করণ আছে। সাতটা ঘুরে ঘুরে আসে (চর করণ): বব, বালব, কৌলব, তৈতিল, গর, বণিজ আর বিষ্টি। চারটা মাসে একবারই আসে (স্থির করণ): শকুনি, চতুষ্পদ, নাগ আর কিংস্তুঘ্ন। শুক্লপক্ষের প্রতিপদের দ্বিতীয় অর্ধ থেকে চর করণগুলো চক্রাকারে চলে, আর কৃষ্ণ চতুর্দশীর শেষ অর্ধ থেকে শুক্ল প্রতিপদের প্রথম অর্ধ পর্যন্ত চার স্থির করণ।

বিষ্টি করণকে ভদ্রা বলে। ভদ্রার সময় নতুন কাজ, কেনাকাটা, যাত্রা বা চুক্তি এড়ানোর প্রথা আছে। শুভলগ্নের দৈনিক রাশিফলে যে "পঞ্জিকায় আজ ভদ্রা" লেখা দেখেন, তা এই করণের কথা।

পঞ্জিকার সময় কোন জায়গার

তিথি, নক্ষত্র, যোগ আর করণ শুরু-শেষ হয় একই মুহূর্তে সারা পৃথিবীতে; শুধু স্থানীয় ঘড়িতে সময়টা আলাদা দেখায়। কিন্তু সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, রাহুকাল আর কোন তিথি সূর্যোদয়ে আছে, এগুলো জায়গাভেদে বদলায়। শুভলগ্নের দৈনিক পঞ্জিকা ঢাকার সূর্যোদয় ধরে তৈরি।

সাধারণ প্রশ্ন

পঞ্চাঙ্গের পাঁচ অঙ্গ কী কী?

তিথি, বার, নক্ষত্র, যোগ আর করণ।

ভদ্রা কী?

বিষ্টি করণের আরেক নাম ভদ্রা। এটা চলার সময় শুভ কাজ শুরু না করার প্রথা আছে।

হিন্দু দিন কখন শুরু হয়?

সূর্যোদয়ে। তাই মধ্যরাতের পরের কিন্তু সূর্যোদয়ের আগের সময় পঞ্জিকায় আগের দিনের মধ্যে ধরা হয়।

এই বিষয়ে আরও পড়ুন

সব লেখা