নবাংশ (D9) আর ষোড়শবর্গ: রাশিছকের ভেতরের ছক
রাশিছক (D1) জীবনের মোটা দাগের ছবি। কিন্তু এক রাশির ৩০ অংশের ভেতরেও গ্রহের অবস্থান অনেক কিছু বলে। প্রতিটা রাশিকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে আলাদা ছক বানানোকে বর্গ বা বিভাগ ছক বলে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নবাংশ, অর্থাৎ নয় ভাগের ছক।
নবাংশ কীভাবে বের হয়
একটা রাশি ৩০ অংশ; নয় ভাগ করলে প্রতি ভাগ ৩ অংশ ২০ কলা, ঠিক এক নক্ষত্র-পাদের সমান। প্রথম ভাগ কোন রাশি থেকে শুরু হবে, তা ঠিক হয় রাশির তত্ত্ব দেখে:
| রাশির তত্ত্ব | রাশি | প্রথম নবাংশ শুরু |
|---|---|---|
| অগ্নি | মেষ, সিংহ, ধনু | মেষ |
| পৃথ্বী | বৃষ, কন্যা, মকর | মকর |
| বায়ু | মিথুন, তুলা, কুম্ভ | তুলা |
| জল | কর্কট, বৃশ্চিক, মীন | কর্কট |
উদাহরণ: কোনো গ্রহ সিংহের ১৪ অংশে। সিংহ অগ্নিরাশি, তাই নবাংশ শুরু মেষ থেকে। ১৪ অংশ মানে পঞ্চম ভাগ (১৩°২০′ থেকে ১৬°৪০′)। মেষ থেকে পঞ্চম রাশি সিংহ, তাই গ্রহটি নবাংশে সিংহে।
সহজ নিয়ম হিসেবে মনে রাখা যায়: অশ্বিনীর প্রথম পাদ মেষ নবাংশ, দ্বিতীয় পাদ বৃষ, এভাবে প্রতিটা পাদ পরের রাশি; ১০৮ পাদে বারো রাশি নয়বার ঘুরে আসে।
বর্গোত্তম
কোনো গ্রহ রাশিছক আর নবাংশ, দুই ছকেই একই রাশিতে থাকলে তাকে বর্গোত্তম বলে। বর্গোত্তম গ্রহ খুব বলবান ধরা হয়, প্রায় স্বক্ষেত্রী গ্রহের মতো। প্রতিটা রাশির একটা নির্দিষ্ট ভাগে এটা হয়: চর রাশির প্রথম নবাংশে, স্থির রাশির পঞ্চমে, দ্বিস্বভাব রাশির নবমে। বর্গোত্তম লগ্নও শুভ ধরা হয়।
নবাংশ কেন এত জরুরি
- গ্রহের আসল শক্তি: রাশিছকে উচ্চ কিন্তু নবাংশে নীচ গ্রহ প্রত্যাশামতো ফল দেয় না; আবার রাশিছকে নীচ কিন্তু নবাংশে উচ্চ হলে নীচভঙ্গ হয়।
- বিয়ে আর জীবনসঙ্গী: নবাংশকে দাম্পত্যের ছক বলা হয়। নবাংশের সপ্তম ঘর, তার অধিপতি আর শুক্র-বৃহস্পতির অবস্থা দেখে বিবাহিত জীবন বিচার হয়।
- জীবনের দ্বিতীয় ভাগ: প্রচলিত মতে নবাংশ মধ্যবয়স আর তার পরের জীবনের ফল আরও স্পষ্ট দেখায়।
- ধর্ম আর ভাগ্য: "নব" মানে নবম; নবাংশ নবম ঘরের মতো ভাগ্য আর ধর্মের ছবিও দেয়।
ষোড়শবর্গ: ষোলোটা ছক
পরাশর ষোলোটা বিভাগ ছকের কথা বলেছেন। প্রধান কয়েকটা:
| ছক | ভাগ | কী বিচার |
|---|---|---|
| রাশি (D1) | ১ | সামগ্রিক জীবন, শরীর |
| হোরা (D2) | ২ | ধনসম্পদ |
| দ্রেক্কাণ (D3) | ৩ | ভাইবোন, সাহস |
| চতুর্থাংশ (D4) | ৪ | বাড়ি, সম্পত্তি, ভাগ্য |
| সপ্তাংশ (D7) | ৭ | সন্তান |
| নবাংশ (D9) | ৯ | দাম্পত্য, গ্রহের প্রকৃত বল, ধর্ম |
| দশাংশ (D10) | ১০ | পেশা, সামাজিক অবস্থান |
| দ্বাদশাংশ (D12) | ১২ | বাবা-মা |
| ষোড়শাংশ (D16) | ১৬ | যানবাহন, সুখ |
| বিংশাংশ (D20) | ২০ | আধ্যাত্মিক উন্নতি |
| চতুর্বিংশাংশ (D24) | ২৪ | শিক্ষা |
| ত্রিংশাংশ (D30) | ৩০ | কষ্ট, রোগ, অশুভ দিক |
| ষষ্ট্যংশ (D60) | ৬০ | পূর্বজন্মের কর্ম, সূক্ষ্মতম বিচার |
যত সূক্ষ্ম ভাগ, তত সঠিক জন্মসময় লাগে। ষষ্ট্যংশে প্রতি ভাগ মাত্র আধা অংশ, তাই লগ্নের হিসাবে কয়েক মিনিটের ভুলেই এই ছক বদলে যায়। জন্মসময় নিয়ে সন্দেহ থাকলে D1 আর D9 এর ওপরেই বেশি ভরসা রাখা উচিত।
সাধারণ প্রশ্ন
নবাংশ কী?
প্রতিটা রাশিকে ৩°২০′ করে নয় ভাগ করে তৈরি ছক (D9)। বিয়ে আর গ্রহের প্রকৃত বল বিচারে এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ছক।
বর্গোত্তম মানে কী?
কোনো গ্রহ বা লগ্ন রাশিছক আর নবাংশ দুই ছকেই একই রাশিতে থাকলে তাকে বর্গোত্তম বলে। এমন গ্রহ খুব বলবান ধরা হয়।
পেশার জন্য কোন বিভাগ ছক দেখা হয়?
দশাংশ (D10)।
এই বিষয়ে আরও পড়ুন
- জন্মকুণ্ডলী পড়ার ধাপ: ছক চেনা থেকে বিচার পর্যন্ত
- লগ্ন অনুযায়ী শুভ, অশুভ আর যোগকারক গ্রহ
- কুণ্ডলীর প্রধান যোগ: গজকেশরী, পঞ্চমহাপুরুষ, রাজযোগ, ধনযোগ আর কেমদ্রুম
- বিয়েতে কুষ্ঠি মিলন: অষ্টকূট আর ৩৬ গুণের হিসাব
- মাঙ্গলিক দোষ: কী, কাদের হয়, আর আসলে কতটা ভয়ের
- রত্ন: কোন গ্রহের কোন রত্ন, কোন আঙুলে, আর কখন পরবেন না