কুণ্ডলীর প্রধান যোগ: গজকেশরী, পঞ্চমহাপুরুষ, রাজযোগ, ধনযোগ আর কেমদ্রুম
কুণ্ডলীতে দুই বা তার বেশি গ্রহ বিশেষভাবে সম্পর্কিত হলে তাকে যোগ বলে। প্রাচীন গ্রন্থে শত শত যোগের নাম আছে। কিন্তু একটা কথা আগে মনে রাখা দরকার: প্রায় প্রতিটা কুণ্ডলীতে কোনো না কোনো "রাজযোগ" খুঁজে পাওয়া যায়। যোগ থাকা আর যোগ ফলা এক জিনিস নয়।
পঞ্চমহাপুরুষ যোগ
মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র বা শনি নিজের রাশি বা উচ্চ রাশিতে থেকে লগ্ন (কিছু মতে চন্দ্র) থেকে কেন্দ্রে, অর্থাৎ প্রথম, চতুর্থ, সপ্তম বা দশম ঘরে থাকলে পাঁচটা মহাপুরুষ যোগের একটা হয়:
| যোগ | গ্রহ | রাশি | মূল ফল |
|---|---|---|---|
| রুচক | মঙ্গল | মেষ, বৃশ্চিক, মকর | সাহস, নেতৃত্ব, শারীরিক শক্তি, প্রশাসন বা সেনায় সাফল্য |
| ভদ্র | বুধ | মিথুন, কন্যা | তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, বাকপটুতা, ব্যবসা আর লেখায় দক্ষতা |
| হংস | বৃহস্পতি | ধনু, মীন, কর্কট | জ্ঞান, নৈতিকতা, সম্মান, শিক্ষকতা বা উপদেষ্টার ভূমিকা |
| মালব্য | শুক্র | বৃষ, তুলা, মীন | সৌন্দর্যবোধ, শিল্প, আরাম, সুখী দাম্পত্য |
| শশ | শনি | মকর, কুম্ভ, তুলা | পরিশ্রম, কর্তৃত্ব, সংগঠন, দীর্ঘস্থায়ী প্রতিষ্ঠা |
গজকেশরী যোগ
চাঁদ থেকে বৃহস্পতি কেন্দ্রে (প্রথম, চতুর্থ, সপ্তম বা দশমে) থাকলে গজকেশরী যোগ। হাতির মতো শক্তি আর সিংহের মতো মর্যাদার প্রতীক: সুনাম, বুদ্ধি, প্রভাব। তবে মোটামুটি প্রতি তিনজনের একজনের ছকে এই বিন্যাস থাকে, তাই যোগটা জোরালো হতে হলে বৃহস্পতি আর চাঁদ দুজনেরই বলবান হওয়া দরকার: নীচ, অস্ত বা দুঃস্থানে নয়।
রাজযোগ
কেন্দ্রের অধিপতি (প্রথম, চতুর্থ, সপ্তম, দশম) আর ত্রিকোণের অধিপতি (প্রথম, পঞ্চম, নবম) একসঙ্গে বসলে, পরস্পরকে দেখলে বা একে অপরের ঘরে বসলে (পরিবর্তন) রাজযোগ হয়। সবচেয়ে শক্তিশালী নবম আর দশম ঘরের অধিপতির মিলন, একে ধর্মকর্মাধিপতি যোগ বলে।
যোগকারক গ্রহ: কোনো লগ্নে একটা গ্রহ একাই কেন্দ্র আর ত্রিকোণ দুটোর মালিক হলে সেটা যোগকারক। যেমন বৃষ আর তুলা লগ্নে শনি, কর্কট আর সিংহ লগ্নে মঙ্গল, মকর আর কুম্ভ লগ্নে শুক্র।
ধনযোগ
দ্বিতীয় আর একাদশ (ধন আর লাভ) ঘরের অধিপতি যখন পঞ্চম বা নবম (পুণ্য আর ভাগ্য) ঘরের অধিপতির সঙ্গে সম্পর্কে আসে, তখন ধনযোগ। লগ্নপতির জড়িত থাকা ফলকে আরও জোরালো করে।
বিপরীত রাজযোগ
ষষ্ঠ, অষ্টম আর দ্বাদশ ঘরের অধিপতিরা নিজেরাই এই তিন ঘরের মধ্যে বসলে খারাপে খারাপ কাটে। প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে হঠাৎ উত্থান বা প্রতিপক্ষের পতনে সুবিধা, এমন ফল দেখা যায়। তিনটা নাম আছে: ষষ্ঠাধিপতি থেকে হর্ষ, অষ্টমাধিপতি থেকে সরল, দ্বাদশাধিপতি থেকে বিমল যোগ।
বুধাদিত্য যোগ
সূর্য আর বুধ একসঙ্গে থাকলে বুধাদিত্য। বুদ্ধি আর বিশ্লেষণক্ষমতা দেয়। তবে বুধ সূর্য থেকে কখনো ২৮ অংশের বেশি দূরে যায় না, তাই এটা খুবই সাধারণ যোগ। বুধ অস্ত না হলে, অর্থাৎ সূর্য থেকে অন্তত ১৪ অংশ দূরে থাকলে, যোগটা কাজের।
কেমদ্রুম যোগ
চাঁদের আগের আর পরের ঘরে (দ্বিতীয় আর দ্বাদশে) সূর্য আর রাহু-কেতু ছাড়া কোনো গ্রহ না থাকলে কেমদ্রুম। একাকীত্ব, মানসিক অস্থিরতা আর অর্থকষ্টের যোগ বলা হয়। তবে এর ভঙ্গ খুব সাধারণ: চাঁদ থেকে বা লগ্ন থেকে কেন্দ্রে কোনো গ্রহ থাকলে, বা চাঁদ কোনো গ্রহের সঙ্গে থাকলে কেমদ্রুম কাটে।
যোগ কতটা ফলবে, যাচাইয়ের চার প্রশ্ন
- যোগ গঠনকারী গ্রহেরা কতটা বলবান? নীচ, অস্ত, পাপগ্রহে পীড়িত হলে ফল কমে।
- যোগ কোন ঘরে? কেন্দ্র-ত্রিকোণে ভালো, দুঃস্থানে দুর্বল।
- নবাংশে কী অবস্থা? নবাংশে গ্রহ শক্ত থাকলে রাশিছকের যোগ টেকে। দেখুন নবাংশ।
- দশা আসবে কি? যোগের গ্রহদের দশা জীবনের কাজের বয়সে না এলে যোগ সুপ্তই থেকে যায়।
এই চার প্রশ্নের উত্তর মেলে গেলে তবেই কোনো যোগকে সত্যিকারের "রাজযোগ" বলা চলে।
সাধারণ প্রশ্ন
গজকেশরী যোগ কী?
চাঁদ থেকে বৃহস্পতি কেন্দ্রে (প্রথম, চতুর্থ, সপ্তম বা দশম ঘরে) থাকলে গজকেশরী যোগ হয়। দুই গ্রহ বলবান হলে এটা সুনাম আর বুদ্ধির যোগ।
পঞ্চমহাপুরুষ যোগ কয়টা ও কী কী?
পাঁচটা: রুচক (মঙ্গল), ভদ্র (বুধ), হংস (বৃহস্পতি), মালব্য (শুক্র) আর শশ (শনি)। গ্রহ নিজ বা উচ্চ রাশিতে থেকে কেন্দ্রে থাকলে হয়।
যোগকারক গ্রহ কাকে বলে?
যে গ্রহ একই সঙ্গে কোনো কেন্দ্র আর কোনো ত্রিকোণ ঘরের অধিপতি। যেমন বৃষ ও তুলা লগ্নে শনি।