জন্মকুণ্ডলী পড়ার ধাপ: ছক চেনা থেকে বিচার পর্যন্ত
প্রথমবার কুণ্ডলী হাতে নিলে মনে হয় কতগুলো ঘর আর সংখ্যার জট। আসলে প্রতিটা ছকই একই তথ্য দেখায়: বারোটা ঘর, বারোটা রাশি আর নয়টা গ্রহ কোথায়। শুধু আঁকার ধরন আলাদা।
তিন রকম ছক
উত্তর ভারতীয় ছক (হীরক ছক): একটা বর্গের ভেতরে কোনাকুনি রেখা টেনে বারোটা ঘর। ঘরগুলো স্থির: ওপরের মাঝের হীরক আকারের ঘরটা সবসময় লগ্ন (প্রথম ঘর), তারপর ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে দ্বিতীয়, তৃতীয়। প্রতিটা ঘরে যে সংখ্যা লেখা থাকে, সেটা রাশির ক্রম (১ মেষ, ২ বৃষ, ... ১২ মীন)। যেমন লগ্নের ঘরে "৫" মানে সিংহ লগ্ন।
বাংলা বা পূর্ব ভারতীয় ছক: বর্গের ভেতরে ঘরগুলো রাশি অনুযায়ী স্থির। ওপরের মাঝের ঘর মেষ, তারপর ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে বৃষ, মিথুন, এভাবে। লগ্ন যে রাশিতে, সেখানে "লগ্ন" বা একটা দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। বাংলার পুরোনো ঠিকুজিতে এই ছকই বেশি দেখা যায়।
দক্ষিণ ভারতীয় ছক: এখানেও রাশি স্থির, তবে ঘড়ির কাঁটার দিকে সাজানো। ওপরের সারির বাঁ দিক থেকে দ্বিতীয় ঘর মেষ।
তিন ছকেই গ্রহেরা নিজের রাশির ঘরে লেখা থাকে, প্রায়ই সংক্ষেপে: র (রবি), চ (চন্দ্র), ম (মঙ্গল), বু (বুধ), বৃ (বৃহস্পতি), শু (শুক্র), শ (শনি), রা (রাহু), কে (কেতু)। শুভলগ্নের জন্মকুণ্ডলী পাতায় উত্তর ভারতীয় আর বাংলা দুই রকম ছকই দেখা যায়।
পড়ার ক্রম
একটা কুণ্ডলী বিচারে বসলে মোটামুটি এই ক্রমে এগোন:
- লগ্ন আর লগ্নপতি: লগ্ন কোন রাশি, তার অধিপতি কোন ঘরে, কোন রাশিতে, কেমন বলে। এটাই মানুষটার মূল শক্তির ছবি।
- চাঁদ: চন্দ্ররাশি, নক্ষত্র আর চাঁদের অবস্থা (শুক্ল না কৃষ্ণপক্ষ, কার সঙ্গে, কোন ঘরে)। মন আর আবেগের ছবি।
- সূর্য: আত্মবিশ্বাস, বাবা আর কর্তৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক।
- কেন্দ্রের গ্রহ: প্রথম, চতুর্থ, সপ্তম আর দশমে কারা আছে। এরা জীবনের বড় কাঠামো তৈরি করে।
- গ্রহের বল: কে উচ্চ, কে নীচ, কে অস্ত, কে বক্রী। দেখুন গ্রহের বল।
- যোগ: রাজযোগ, ধনযোগ, পঞ্চমহাপুরুষ, কেমদ্রুম। দেখুন প্রধান যোগ।
- নির্দিষ্ট প্রশ্নের ঘর: বিয়ের জন্য সপ্তম, পেশার জন্য দশম, সন্তানের জন্য পঞ্চম। ঘর, ঘরের অধিপতি, দৃষ্টি আর কারক গ্রহ। দেখুন বারো ভাব।
- নবাংশ: গ্রহেরা নবাংশে কেমন, বিশেষ করে বিয়ে আর মূল গ্রহদের বল যাচাইয়ে।
- দশা: এখন কোন মহাদশা আর অন্তর্দশা চলছে, সামনে কোনটা আসছে। দেখুন বিংশোত্তরী দশা।
- গোচর: দশার পটভূমিতে এখন গ্রহেরা কোথায় দিয়ে যাচ্ছে।
তিনটা পুরোনো উপদেশ
- একটা গ্রহ দেখে রায় নয়। "সপ্তমে শনি, বিয়ে দেরিতে" বলার আগে দেখতে হবে শনি কেমন, সপ্তমের অধিপতি কোথায়, বৃহস্পতি দেখছে কি না।
- পুনরাবৃত্তি খুঁজুন। কোনো ফল যদি তিন জায়গা থেকে একই কথা বলে (যেমন লগ্ন থেকে, চাঁদ থেকে আর নবাংশ থেকে), সেটাই জোরালো।
- জন্মসময় যাচাই করুন। লগ্ন রাশির একেবারে শুরু বা শেষে হলে আগে নিশ্চিত হয়ে নিন; সূক্ষ্ম বিচার সব নির্ভর করে লগ্নের ওপর।
যেখানে সাহায্য লাগে
নিজে কুণ্ডলী পড়া শেখা আনন্দের, আর নিজেকে বোঝার ভালো উপায়। তবে বিয়ে, পেশা বা স্বাস্থ্যের মতো বড় সিদ্ধান্তে অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর চোখ অনেক সূক্ষ্ম জিনিস ধরতে পারে। শুভলগ্নে ব্যক্তিগত পরামর্শের সুযোগ আছে।
সাধারণ প্রশ্ন
উত্তর ভারতীয় আর বাংলা ছকের ফারাক কী?
উত্তর ভারতীয় ছকে ঘর স্থির, লগ্ন সবসময় ওপরের মাঝে, রাশির সংখ্যা ঘরে লেখা থাকে। বাংলা ছকে রাশি স্থির, মেষ ওপরের মাঝে, আর লগ্ন যে রাশিতে সেখানে চিহ্ন দেওয়া হয়।
কুণ্ডলী পড়া কোথা থেকে শুরু করব?
লগ্ন আর লগ্নপতি দিয়ে, তারপর চাঁদ, সূর্য আর কেন্দ্রের গ্রহ।
কুণ্ডলীতে "বৃ" মানে কী?
বৃহস্পতি। একইভাবে র রবি, চ চন্দ্র, ম মঙ্গল, বু বুধ, শু শুক্র, শ শনি, রা রাহু আর কে কেতু।