গ্রহের দৃষ্টি: কোন গ্রহ কোন ঘর দেখে
গ্রহ শুধু যে ঘরে বসে আছে সেখানে নয়, দূরের ঘরেও প্রভাব ফেলে। এই প্রভাবকে দৃষ্টি বলে। কুণ্ডলী পড়তে গিয়ে "এই ঘরে কে বসে আছে" প্রশ্নের মতোই জরুরি "এই ঘরে কে তাকিয়ে আছে"।
সাধারণ নিয়ম: সপ্তম দৃষ্টি
প্রতিটা গ্রহ নিজের অবস্থান থেকে সপ্তম ঘরে পূর্ণ দৃষ্টি দেয়। লগ্নে থাকা শনি সপ্তম ঘর দেখে, দশমে থাকা বৃহস্পতি চতুর্থ ঘর দেখে। এভাবে মুখোমুখি দুই ঘরে থাকা গ্রহেরা একে অপরকে দেখে।
তিন গ্রহের বিশেষ দৃষ্টি
| গ্রহ | পূর্ণ দৃষ্টি দেয় (নিজের ঘর থেকে গুনে) |
|---|---|
| মঙ্গল | চতুর্থ, সপ্তম, অষ্টম |
| বৃহস্পতি | পঞ্চম, সপ্তম, নবম |
| শনি | তৃতীয়, সপ্তম, দশম |
| সূর্য, চন্দ্র, বুধ, শুক্র | শুধু সপ্তম |
| রাহু, কেতু | মতভেদ আছে; অনেকে পঞ্চম, সপ্তম, নবম ধরেন, অনেকে শুধু যুতি দেখেন |
গোনার সময় যে ঘরে গ্রহ বসে আছে সেটাকে প্রথম ধরতে হয়। মেষে বৃহস্পতি থাকলে তার পঞ্চম দৃষ্টি সিংহে, সপ্তম দৃষ্টি তুলায়, নবম দৃষ্টি ধনুতে।
দৃষ্টির ফল
দৃষ্টি দেওয়া গ্রহের স্বভাব অনুযায়ী ফল হয়:
- বৃহস্পতির দৃষ্টি রক্ষা করে। যে ঘর বা গ্রহের ওপর বৃহস্পতির দৃষ্টি, তার দুর্বলতা অনেকটা কাটে। প্রচলিত কথা আছে, "গুরুর দৃষ্টি অমৃত"।
- শনির দৃষ্টি দেরি, চাপ আর দায়িত্ব আনে। শনি যে ঘর দেখে, সেই বিষয় সহজে হাতে আসে না, তবে পরিশ্রমে টেকসই হয়।
- মঙ্গলের দৃষ্টি তাপ আর তাড়া আনে: উদ্যম, তর্ক, কাটাছেঁড়া, দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
- শুক্র আর বুধের দৃষ্টি সাধারণত কোমল আর সহায়ক।
- সূর্যের দৃষ্টি কর্তৃত্ব আর অহং আনে; চাঁদের দৃষ্টি আবেগ আর জনসংযোগ।
একটা ঘরে শুভ আর ক্রূর দুই রকম দৃষ্টিই পড়লে দুটো মিলিয়ে বিচার করতে হয়। বেশির ভাগ জ্যোতিষী বৃহস্পতির দৃষ্টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।
আংশিক দৃষ্টি
পরাশরের মতে অন্য ঘরেও গ্রহেরা আংশিক দৃষ্টি দেয়: তৃতীয় আর দশমে এক-চতুর্থাংশ, পঞ্চম আর নবমে অর্ধেক, চতুর্থ আর অষ্টমে তিন-চতুর্থাংশ। মঙ্গল, বৃহস্পতি আর শনির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঘরের দৃষ্টি পূর্ণ হয়ে যায়, তাই সেগুলোই "বিশেষ দৃষ্টি"। দৈনন্দিন বিচারে সাধারণত শুধু পূর্ণ দৃষ্টি গোনা হয়।
রাশি দৃষ্টি (জৈমিনী)
জৈমিনী পদ্ধতিতে গ্রহের বদলে রাশি দৃষ্টি দেয়। চর রাশি পাশের স্থির রাশি বাদে সব স্থির রাশি দেখে, স্থির রাশি পাশের চর রাশি বাদে সব চর রাশি দেখে, আর দ্বিস্বভাব রাশি একে অপরকে দেখে। এটা আলাদা পদ্ধতি; সাধারণ কুণ্ডলী বিচারে পরাশরী দৃষ্টিই চলে।
উদাহরণ
ধরুন কারও লগ্ন কর্কট, সপ্তম ঘর মকর। দশম ঘরে (মেষ) শনি থাকলে তার দশম দৃষ্টি পড়বে সপ্তম ঘরে (মকর)। বিয়েতে দেরি বা দায়িত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত। কিন্তু একই সঙ্গে লগ্নে বৃহস্পতি থাকলে তার সপ্তম দৃষ্টিও পড়বে মকরে, যা শনির চাপ অনেকটা নরম করবে। এভাবেই দৃষ্টি মিলিয়ে ছবিটা পূর্ণ হয়।
সাধারণ প্রশ্ন
সব গ্রহ কোন ঘরে দৃষ্টি দেয়?
প্রতিটা গ্রহ নিজের অবস্থান থেকে সপ্তম ঘরে পূর্ণ দৃষ্টি দেয়।
শনির বিশেষ দৃষ্টি কোন কোন ঘরে?
নিজের ঘর থেকে গুনে তৃতীয় আর দশম ঘরে, সঙ্গে সাধারণ সপ্তম দৃষ্টি।
বৃহস্পতির দৃষ্টি কেন শুভ ধরা হয়?
বৃহস্পতি পূর্ণ শুভগ্রহ, তাই তার দৃষ্টি যে ঘর বা গ্রহে পড়ে, তার দুর্বলতা কমে আর রক্ষা পায় বলে শাস্ত্রে বলা হয়।
এই বিষয়ে আরও পড়ুন
- বারো রাশি: স্বভাব, তত্ত্ব আর অধিপতি গ্রহ
- নবগ্রহ: কোন গ্রহ কী বোঝায়, শুভ না অশুভ
- বারো ভাব: কুণ্ডলীর কোন ঘর কী বলে
- লগ্ন কী, কীভাবে বের হয়, আর জন্মসময় কেন এত জরুরি
- নিজের রাশি কীভাবে জানবেন: জন্মরাশি, লগ্ন আর তারিখের রাশির পার্থক্য
- সায়ন আর নিরয়ন: অয়নাংশ কী, আর পত্রিকার রাশির সঙ্গে কেন মেলে না
- গ্রহের বল: উচ্চ, নীচ, মূলত্রিকোণ আর স্বক্ষেত্র
- গ্রহের মৈত্রী: কোন গ্রহ কার বন্ধু, কার শত্রু