লগ্ন কী, কীভাবে বের হয়, আর জন্মসময় কেন এত জরুরি
পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘোরে বলে চব্বিশ ঘণ্টায় বারোটা রাশিই একবার করে পূর্ব দিগন্তে ওঠে। জন্মের ঠিক মুহূর্তে যে রাশি উঠছিল, সেটাই লগ্ন। কুণ্ডলীর প্রথম ঘর এই লগ্ন, আর বাকি এগারো ঘর এখান থেকেই গোনা হয়। তাই লগ্নকে কুণ্ডলীর মেরুদণ্ড বলা হয়।
লগ্ন আর রাশির ফারাক
একই দিনে জন্মানো দুজনের চন্দ্ররাশি একই হতে পারে, কারণ চাঁদ এক রাশিতে প্রায় সোয়া দুই দিন থাকে। কিন্তু সকালে আর সন্ধ্যায় জন্মালে লগ্ন একেবারে আলাদা হবে। সেজন্য:
- রাশি (চন্দ্ররাশি) বলে মন, মেজাজ, দৈনন্দিন ফল আর দশার কথা।
- লগ্ন বলে শরীর, চেহারা, জীবনের গতিপথ আর কোন ঘরে কোন গ্রহ বসেছে।
ভালো বিচারে দুটোই লাগে। শুভলগ্নের রাশিফল চন্দ্ররাশি ধরে লেখা, তবে লগ্ন জানা থাকলে লগ্নের রাশির ফলও মিলিয়ে পড়া যায়।
লগ্ন কত তাড়াতাড়ি বদলায়
গড়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পরপর। কিন্তু সব রাশি সমান সময় নিয়ে ওঠে না। ঢাকা বা কলকাতার অক্ষাংশে মীন, মেষ আর কুম্ভের মতো রাশি দেড় ঘণ্টার কাছাকাছি সময়ে উঠে যায়, আবার সিংহ, কন্যা, তুলা বা বৃশ্চিক আড়াই ঘণ্টার কাছাকাছি সময় নেয়। যত উত্তরে যাবেন, এই ফারাক তত বাড়বে।
এর মানে, লগ্নের একেবারে শুরু বা শেষে জন্ম হলে পাঁচ-দশ মিনিটের ভুলেও লগ্ন বদলে যেতে পারে। আর লগ্ন বদলালে প্রতিটা গ্রহের ঘর বদলে যায়।
লগ্ন কীভাবে গোনা হয়
হাতে গোনার যুগে পঞ্জিকার লগ্নসারণি দেখে সূর্যোদয়ের সময় থেকে হিসাব করা হতো। এখন গণনা সরাসরি করা যায়:
- জন্মের স্থানীয় সময়কে বিশ্ব সময়ে (UTC) বদলানো হয়।
- সেই মুহূর্তের নাক্ষত্র সময় (সাইডেরিয়াল টাইম) আর জন্মস্থানের দ্রাঘিমা থেকে বের হয় মধ্যগগনের অবস্থান।
- জন্মস্থানের অক্ষাংশ আর পৃথিবীর অক্ষের হেলানো কোণ ধরে বের হয় পূর্ব দিগন্তের বিন্দু, অর্থাৎ সায়ন লগ্ন।
- তা থেকে অয়নাংশ বাদ দিলে আসে নিরয়ন (বৈদিক) লগ্ন।
শুভলগ্নের জন্মকুণ্ডলী পাতায় এই গণনা আপনার ব্রাউজারেই হয়, লাহিড়ী অয়নাংশে।
জন্মসময় ঠিক না জানলে
অনেকের জন্মসময় আন্দাজে লেখা থাকে: "সকালবেলা", "আজানের সময়", "সন্ধ্যা লাগার আগে"। এমন ক্ষেত্রে কয়েকটা উপায় আছে:
- হাসপাতালের কাগজ, পুরোনো ঠিকুজি বা পরিবারের কারও ডায়েরি খুঁজে দেখুন।
- সম্ভাব্য দুটো লগ্নের মধ্যে কোনটা শরীর, চেহারা আর জীবনের বড় ঘটনার সঙ্গে মেলে, অভিজ্ঞ জ্যোতিষী সেটা মিলিয়ে দেখতে পারেন। একে জন্মসময় সংশোধন বলে।
- একেবারেই সময় জানা না থাকলে চন্দ্ররাশিও অনিশ্চিত হতে পারে। তখন নামের প্রথম অক্ষর ধরে নামাক্ষর রাশিফল পড়াই প্রচলিত বিকল্প।
লগ্নের অধিপতি
লগ্ন যে রাশিতে, তার অধিপতিকে লগ্নপতি বলে। লগ্নপতি কেন্দ্র বা ত্রিকোণে শক্ত অবস্থায় থাকলে মানুষটা নিজের চেষ্টায় দাঁড়াতে পারে; ষষ্ঠ, অষ্টম বা দ্বাদশে দুর্বল থাকলে জীবনে বাধা বেশি আসে বলে ধরা হয়। কুণ্ডলী বিচারে প্রথম যে প্রশ্নটা করা হয়, তা হলো লগ্নপতি কোথায়।
সাধারণ প্রশ্ন
লগ্ন আর রাশি কি একই?
না। রাশি হলো জন্মের সময় চাঁদ যে রাশিতে ছিল; লগ্ন হলো সেই মুহূর্তে পূর্ব দিগন্তে যে রাশি উঠছিল। দুটো আলাদা হতে পারে, একই হতেও পারে।
লগ্ন বের করতে কী কী লাগে?
জন্মের তারিখ, সঠিক সময় আর জন্মস্থান (শহর বা গ্রামের নাম, যাতে অক্ষাংশ-দ্রাঘিমা পাওয়া যায়)।
কতক্ষণ পরপর লগ্ন বদলায়?
গড়ে প্রায় দুই ঘণ্টা, তবে রাশিভেদে দেড় থেকে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত, জন্মস্থানের অক্ষাংশ অনুযায়ী।
এই বিষয়ে আরও পড়ুন
- বারো রাশি: স্বভাব, তত্ত্ব আর অধিপতি গ্রহ
- নবগ্রহ: কোন গ্রহ কী বোঝায়, শুভ না অশুভ
- বারো ভাব: কুণ্ডলীর কোন ঘর কী বলে
- নিজের রাশি কীভাবে জানবেন: জন্মরাশি, লগ্ন আর তারিখের রাশির পার্থক্য
- সায়ন আর নিরয়ন: অয়নাংশ কী, আর পত্রিকার রাশির সঙ্গে কেন মেলে না
- গ্রহের বল: উচ্চ, নীচ, মূলত্রিকোণ আর স্বক্ষেত্র
- গ্রহের মৈত্রী: কোন গ্রহ কার বন্ধু, কার শত্রু
- গ্রহের দৃষ্টি: কোন গ্রহ কোন ঘর দেখে