বিংশোত্তরী দশা: ১২০ বছরের চক্র কীভাবে গোনা হয়
জন্মকুণ্ডলী বলে জীবনে কী কী সম্ভাবনা আছে; দশা বলে কোনটা কখন। বৈদিক জ্যোতিষের অনেক দশাপদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত বিংশোত্তরী, যার পুরো চক্র ১২০ বছরের। মহর্ষি পরাশর কলিযুগের জন্য এটাকেই প্রধান বলেছেন।
নয় গ্রহের মহাদশা
| ক্রম | গ্রহ | মহাদশার বছর | যে নক্ষত্রে জন্মালে প্রথম দশা |
|---|---|---|---|
| ১ | কেতু | ৭ | অশ্বিনী, মঘা, মূলা |
| ২ | শুক্র | ২০ | ভরণী, পূর্বফাল্গুনী, পূর্বাষাঢ়া |
| ৩ | সূর্য | ৬ | কৃত্তিকা, উত্তরফাল্গুনী, উত্তরাষাঢ়া |
| ৪ | চন্দ্র | ১০ | রোহিণী, হস্তা, শ্রবণা |
| ৫ | মঙ্গল | ৭ | মৃগশিরা, চিত্রা, ধনিষ্ঠা |
| ৬ | রাহু | ১৮ | আর্দ্রা, স্বাতী, শতভিষা |
| ৭ | বৃহস্পতি | ১৬ | পুনর্বসু, বিশাখা, পূর্বভাদ্রপদ |
| ৮ | শনি | ১৯ | পুষ্যা, অনুরাধা, উত্তরভাদ্রপদ |
| ৯ | বুধ | ১৭ | অশ্লেষা, জ্যেষ্ঠা, রেবতী |
যোগ করলে ৭ + ২০ + ৬ + ১০ + ৭ + ১৮ + ১৬ + ১৯ + ১৭ = ১২০। দশা এই ক্রমেই চলে, বুধের পর আবার কেতু।
জন্মের সময় কোন দশা, কতটা বাকি
জন্মের মুহূর্তে চাঁদ যে নক্ষত্রে, তার অধিপতির দশা দিয়ে জীবন শুরু। কিন্তু পুরো দশা পাওয়া যায় না; চাঁদ নক্ষত্রের যতটা পার হয়ে গেছে, দশারও ততটা আগেই "খরচ" হয়ে গেছে।
হিসাবের নিয়ম: একটা নক্ষত্র ১৩ অংশ ২০ কলা (৮০০ কলা)। চাঁদ নক্ষত্রের যতটা বাকি রেখেছে, সেই অনুপাতে দশার বছর বাকি।
উদাহরণ: কারও জন্মের সময় চাঁদ বৃষের ১৫ অংশে। রোহিণী নক্ষত্র বৃষের ১০ অংশ থেকে ২৩°২০′ পর্যন্ত, তাই চাঁদ রোহিণীর ৫ অংশ পার করেছে, বাকি ৮°২০′ (৫০০ কলা)। রোহিণীর অধিপতি চন্দ্র, দশা ১০ বছর। বাকি দশা = ১০ × ৫০০ ÷ ৮০০ = ৬.২৫ বছর, অর্থাৎ প্রায় ৬ বছর ৩ মাস। তারপর মঙ্গলের ৭ বছর, তারপর রাহুর ১৮ বছর, এভাবে।
শুভলগ্নের জন্মকুণ্ডলী পাতা এই হিসাব নিজে করে পুরো দশার তালিকা দেখায়।
অন্তর্দশা
প্রতিটা মহাদশার ভেতরে নয়টা অন্তর্দশা থাকে, একই ক্রমে, শুরু হয় মহাদশার নিজের গ্রহ দিয়ে। অন্তর্দশার দৈর্ঘ্য:
অন্তর্দশা = মহাদশার বছর × অন্তর্দশার গ্রহের বছর ÷ ১২০
যেমন শনির মহাদশায় শনির অন্তর্দশা = ১৯ × ১৯ ÷ ১২০ = ৩.০১ বছর, প্রায় ৩ বছর। শনির মহাদশায় বুধের অন্তর্দশা = ১৯ × ১৭ ÷ ১২০ = ২.৬৯ বছর, প্রায় ২ বছর ৮ মাস। একইভাবে অন্তর্দশার ভেতরে প্রত্যন্তর্দশাও গোনা যায়।
দশার ফল কীভাবে বিচার হয়
দশার গ্রহ নিজের অবস্থা আর মালিকানা অনুযায়ী ফল দেয়। মূল প্রশ্নগুলো:
- কোন ঘরের মালিক: কেন্দ্র আর ত্রিকোণের অধিপতির দশা সাধারণত শুভ; ষষ্ঠ, অষ্টম, দ্বাদশের অধিপতির দশা চাপের।
- কোথায় বসে আছে: ভালো ঘরে বসলে তার মালিকানার ভালো দিক খোলে।
- বল: উচ্চ, স্বক্ষেত্রী বা মিত্রক্ষেত্রী গ্রহের দশা ভালো ফল দেয়; নীচ, অস্ত বা শত্রুক্ষেত্রী গ্রহের দশায় বাধা বেশি।
- যোগ: যে গ্রহ কোনো রাজযোগ বা ধনযোগে জড়িত, তার দশায় সেই যোগ ফলে।
- গোচর: দশার সময় গোচরে গ্রহেরা কোথায়, তা দেখে ঘটনার সময় আরও সূক্ষ্মভাবে ঠিক হয়।
রাহু-কেতুর দশায় দেখা হয় তারা কোন রাশিতে, কাদের সঙ্গে আর রাশির অধিপতি কোথায়।
একটা ভুল ধারণা
"শনির দশা মানেই খারাপ", "শুক্রের দশা মানেই সুখ", এমন ঢালাও কথা ঠিক নয়। বৃষ বা তুলা লগ্নে শনি যোগকারক, তার উনিশ বছরের দশা জীবনের সেরা সময় হতে পারে। আবার কোনো লগ্নে শুক্র অষ্টমাধিপতি হলে তার দশায় স্বাস্থ্য বা হঠাৎ বাধা নিয়ে সাবধান থাকতে হয়। দশা পড়তে হয় নিজের ছক ধরে।
সাধারণ প্রশ্ন
বিংশোত্তরী দশা কত বছরের?
পুরো চক্র ১২০ বছরের: কেতু ৭, শুক্র ২০, সূর্য ৬, চন্দ্র ১০, মঙ্গল ৭, রাহু ১৮, বৃহস্পতি ১৬, শনি ১৯ আর বুধ ১৭ বছর।
প্রথম দশা কীভাবে ঠিক হয়?
জন্মের সময় চাঁদ যে নক্ষত্রে ছিল, তার অধিপতির দশা দিয়ে। নক্ষত্রের কতটা বাকি ছিল, সেই অনুপাতে প্রথম দশার বাকি সময় বের হয়।
অন্তর্দশা কীভাবে গোনা হয়?
মহাদশার বছর গুণ অন্তর্দশার গ্রহের বছর, ভাগ ১২০। যেমন শনির দশায় শনির অন্তর্দশা ১৯ × ১৯ ÷ ১২০, প্রায় ৩ বছর।