অষ্টকবর্গ: বিন্দু দিয়ে গোচরের ফল মাপা
একই দিনে শনি একই রাশিতে, অথচ একজনের জন্য সময়টা দুর্বিষহ, আরেকজনের জন্য মোটামুটি। এই ফারাক বোঝার একটা পুরোনো আর নির্ভরযোগ্য কৌশল হলো অষ্টকবর্গ। "অষ্ট" মানে আট: সাত গ্রহ আর লগ্ন, এই আটটা উৎস থেকে প্রতিটা রাশিতে শুভ বিন্দু (রেখা) দেওয়া হয়।
কীভাবে তৈরি হয়
প্রতিটা গ্রহের জন্য আলাদা একটা ছক তৈরি হয়, তার নাম ভিন্নাষ্টকবর্গ। ধরুন বৃহস্পতির ভিন্নাষ্টকবর্গ। জন্মছকে সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি আর লগ্ন, এই আটটার প্রত্যেকটা থেকে নির্দিষ্ট কিছু ঘরে বৃহস্পতি একটা করে বিন্দু পায়। কোন উৎস থেকে কোন কোন ঘরে বিন্দু, তা পরাশর আর বরাহমিহিরের নির্দিষ্ট সারণিতে দেওয়া। ফলে প্রতিটা রাশিতে বৃহস্পতির বিন্দু হয় ০ থেকে ৮।
সাত গ্রহের সাতটা ভিন্নাষ্টকবর্গ যোগ করলে পাওয়া যায় সর্বাষ্টকবর্গ, যেখানে প্রতিটা রাশির মোট বিন্দু থাকে। রাহু-কেতুর প্রচলিত অষ্টকবর্গ নেই।
মোট বিন্দু
| গ্রহ | ভিন্নাষ্টকবর্গে মোট বিন্দু |
|---|---|
| সূর্য | ৪৮ |
| চন্দ্র | ৪৯ |
| মঙ্গল | ৩৯ |
| বুধ | ৫৪ |
| বৃহস্পতি | ৫৬ |
| শুক্র | ৫২ |
| শনি | ৩৯ |
| সর্বাষ্টকবর্গ | ৩৩৭ |
যেকোনো কুণ্ডলীতে এই মোট সংখ্যা একই থাকে; বদলায় শুধু কোন রাশিতে কত পড়ল। ৩৩৭ কে ১২ দিয়ে ভাগ করলে গড় প্রায় ২৮। তাই:
- কোনো রাশিতে সর্বাষ্টকবর্গ ২৮ এর বেশি হলে সেই রাশি (আর সেই ঘর) শক্ত; গোচরে গ্রহেরা ওখানে গেলে ভালো ফল দেয় বেশি।
- ২৫ এর কম হলে দুর্বল রাশি; সেখানে গোচর কষ্ট দেয় বেশি।
গোচরে কীভাবে ব্যবহার করবেন
গোচরে একটা গ্রহ যখন কোনো রাশিতে যায়, তখন দেখুন সেই রাশিতে ওই গ্রহের নিজের ভিন্নাষ্টকবর্গে কত বিন্দু:
| বিন্দু | ফল |
|---|---|
| ০-৩ | কষ্ট, বাধা, ক্ষতি (যত কম, তত বেশি) |
| ৪ | মাঝামাঝি |
| ৫-৮ | ভালো (যত বেশি, তত ভালো) |
উদাহরণ: শনি চন্দ্ররাশিতে এসেছে (সাড়েসাতির মাঝের পর্ব)। কিন্তু সেই রাশিতে শনির ভিন্নাষ্টকবর্গে ৫ বিন্দু থাকলে এই পর্ব প্রত্যাশার চেয়ে অনেক সহজ যাবে। আবার একাদশে বৃহস্পতির গোচর এমনিতে শুভ, কিন্তু সেখানে বৃহস্পতির বিন্দু মাত্র ২ হলে লাভের আশা কমিয়ে রাখাই ভালো।
আরও কয়েকটা ব্যবহার
- কক্ষ্যা: প্রতিটা রাশিকে আট ভাগে (প্রতি ভাগ ৩°৪৫′) ভাগ করে কোন ভাগে গ্রহ থাকলে ফল দেয়, তা আরও সূক্ষ্মভাবে বের করা যায়।
- ঘরের শক্তি: দশম ঘরে বেশি বিন্দু থাকলে পেশায় উন্নতি সহজ; দ্বাদশে একাদশের চেয়ে বেশি বিন্দু থাকলে আয়ের চেয়ে খরচ বেশি হওয়ার প্রবণতা, এমন নিয়ম প্রচলিত।
- শোধন: ত্রিকোণ আর একাধিপত্য শোধন করে বিন্দু কমিয়ে আয়ু ও অন্যান্য সূক্ষ্ম গণনা হয়; এটা উচ্চতর পর্যায়ের কাজ।
অষ্টকবর্গ গুনতে জন্মছকের সব গ্রহের সঠিক অবস্থান লাগে; শুভলগ্নের জন্মকুণ্ডলী পাতায় সেগুলো পাওয়া যায়, আর পূর্ণ অষ্টকবর্গ সারণিসহ বিচার ব্যক্তিগত পরামর্শে করা হয়। নিজের ছকে কোন রাশিগুলো শক্ত, জানা থাকলে প্রতিদিনের রাশিফলও নিজের মতো করে মিলিয়ে পড়া সহজ হয়।
সাধারণ প্রশ্ন
সর্বাষ্টকবর্গে মোট কত বিন্দু?
৩৩৭। গড়ে প্রতি রাশিতে প্রায় ২৮।
কোন রাশিতে কত বিন্দু থাকলে ভালো?
সর্বাষ্টকবর্গে ২৮ বা তার বেশি হলে রাশিটা শক্ত। কোনো গ্রহের নিজের ভিন্নাষ্টকবর্গে ৪ এর বেশি বিন্দু থাকলে সেই রাশিতে তার গোচর ভালো যায়।
রাহু-কেতুর কি অষ্টকবর্গ আছে?
প্রচলিত পরাশরী পদ্ধতিতে নেই; অষ্টকবর্গ সাত গ্রহ আর লগ্ন নিয়ে।
এই বিষয়ে আরও পড়ুন
- গোচর: চন্দ্ররাশি থেকে কোন ঘরে কোন গ্রহ শুভ
- গোচর বেধ: শুভ গোচর কখন আটকে যায়
- শনির সাড়েসাতি আর ঢাইয়া: কখন শুরু, কতদিন, আর আসলে কতটা ভয়ের
- রাহু আর কেতু: ছায়াগ্রহ কী, কুণ্ডলীতে কী বোঝায়, এখন কোথায়
- বক্রী আর অস্ত গ্রহ: পিছিয়ে চলা আর সূর্যের আলোয় হারিয়ে যাওয়া
- বিংশোত্তরী দশা: ১২০ বছরের চক্র কীভাবে গোনা হয়